Blog Posts

Our latest posts form blog

Tuesday, 17 October 2017 00:00

কেস নং - ২ বিষয়ঃ উত্তেজিত হলে মাথাব্যাথা

Rate this item
(1 Vote)

২৭ বছর বয়সি সোনালী চুলের, নিল চোখের একজন মহিলা প্রচন্ড মাথাব্যাথায় ভুগছিল। মাথাব্যাথাটি কয়েক মাস আগ থেকে শুরু হয়েছিল যখন সে স্কিইং (স্কি অর্থ বরফের উপর দিয়ে চলার জন্য পায়ের তলায় বাধা লম্বা পাত) করতে করতে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিল। তার বাম চোখের ঠিক উপরেই ব্যাথাটির অবস্থান ছিল(৩)। এই মাথাব্যাথাটি প্রায় প্রতিদিনই তাকে ভোর ৪টা বা ৫টার দিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়, অর্থাৎ ব্যাথার কারনে সে জেগে উঠে(৩)। 
এছাড়াও মহিলাটির মাথাব্যাথা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিবেশে শুরু হয়।

 
যেমন, যখন সে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তার মাথাব্যাথা শুরু হয়(২)। উদাহরনস্বরুপঃ অনেক সময় ধরে টিভি দেখলে বা বেশী পড়াশোনা করলে বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে। এমনকি কোন কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করলেও তার এই মাথাব্যাথাটি শুরু হয়(১)। গভীর পানিতে সাতার কাটলে মাথাব্যাথাটি ফিরে আসে বা শুরু হয়(২)। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর কিছু সময়ের জন্য তার মাথাব্যাথা করতে থাকে যতক্ষণ না সে সম্পূর্ণ জাগ্রত হয় (অর্থাৎ মাথাব্যাথা নিয়ে তার ঘুম ভাঙে কিন্তু পুরোপুরি জেগে না ওঠা পর্যন্ত মাথাব্যাথা করতে থাকে ১)। তার ঠান্ডা বেশী (শীত কাতর)। সে মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করে কিন্তু টক পছন্দ করে না। সে আর্নিকা মন্টেনা ঔষধ (Arnica Montana) খেয়েছিল কিন্তু কোন কাজ হয় নি।

 Analysis:

প্রগনসিসঃ (Prognosis)

সমস্যার গভীরতাঃ (Depth of the disturbance)

আমাদের এই কেসের প্রধান সমস্যাটি শারিরীক, মানসিক বা ইমোশোনাল নয়। এখানে মাথার আঘাতে রোগীর কতটা ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারন করা খুব কঠিন কারন এক্ষেত্রে মাথার খুলিতেও(skull) আঘাত লাগতে পারে আবার ব্রেনের মধ্যেও আঘার লাগতে পারে। তবে এটা খুবই স্পষ্ট যে কোথায় আঘাত লেগেছে (ব্রেনে নাকি শুধু মাথার খুলিতে) তার উপর ভিত্তি করে আমাদের প্রগনোসিস নির্ভর করে। শারিরীক ভাবে মাথার খুলি শরীরের বাহ্যিক একটা অংশ কিন্তু ব্রেন শরিরের অত্যান্ত ভিতরের গুরুত্বপূর্ন অংশ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের আঘাতে মানসিক বা আবেগিক (emotional) সমস্যা গুলি পরিলক্ষিত হয়(develop করে)। সৌভাগ্যবশত আমাদের এই কেসে সে ধরনের কিছু হয় নি।

রোগীর ব্যক্তিগত ইতিহাসঃ (Personal medical history of the patient)

এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।

পারিবারিক ও বংশগত প্রবনতা বা ইতিহাসঃ(Family medical history and hereditary predisposition):

এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।

সিদ্ধান্তঃ (Conclusion)

আমাদের কাছে রোগীর সমস্যাটির(complaint) একটি সুস্পষ্ট কারন আছে সেটি হল তার মাথায় আঘাত লাগা। এটা একটা ভালো ব্যাপার যে, রোগীর মাথায় আঘাতের পর রোগের ক্ষেত্রে শুধু শারিরীক লক্ষনই প্রকাশ পেয়েছে কোন মানসিক রোগ এখানে হয় নি। বাহ্যিক কারনের দ্বারা সৃষ্ট রোগের আরোগ্য যতটা দ্রুত বা সহজে করা যায় জন্মগত বা বংশগত রোগের সমস্যার সমাধান অতটা দ্রুত বা সহজে করা যায় না। ক্রণিক নয় এমন বা এ্যাকুইট উপসর্গগুলি (causal symptoms) ক্রণিক (chronic) উপসর্গের উপর একটা আবরন বা স্তর (layer) তৈরি করে। যখন মাঝে মাঝে উপসর্গ গুলি অনেক লম্বা সময় ধরে বিদ্যমান থাকে তখন তারা ক্রনিক উপসর্গের সাথে মিশে যেয়ে কেসটিকে আরো জটিল করে তোলে (হ্যানিম্যান যাকে এ্যাকুইট মায়াজম বলে উল্লেখ করেছেন)। এক্ষেত্রে আমাদের কাছে তেমন কোন তথ্য নেই যাতে করে আমরা এই রোগীর লেভেল অফ হেলথ (level of health) নির্ধারন করতে পারি।

উপসর্গ নির্বাচনঃ (Selection of symptoms)

আঘাতে ব্যাবহৃত ঔষধ গুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান ঔষধ আর্ণিকা (Arinica Montana) রোগী ইতিমধ্যেই গ্রহন করেছে কিন্তু তা তার কোন উপকারে আসেনি। এইজন্য আমাদের এই রোগীর মাথায় আঘাতের ব্যাপারে আরো গভীর ভাবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের এখানে এক এক করে, ধাপে ধাপে অদ্ভুদ লক্ষন গুলির (peculiar sumptoms) প্রতি বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।

অদ্ভুদ উপসর্গঃ (peculiar sumptoms)

  • বাম চোখের উপরের দিকে মাথা ব্যাথা, প্রায় ভোর ৪টা থেকে ৫টার দিকে।
  • যখন সে ঘুম থেকে উঠে তখন মাথা ব্যাথা। (যখন রোগী কঠোর পরিশ্রম করে তখন মাথাব্যাথা শুরু হয় আবার যখন সে ঘুম থেকে উঠছে অর্থাৎ বিশ্রামে আছে তখনো তার মাথ্যাব্যাথা করছে এই বিপরীত ব্যাপারটি এখানে খুব আকর্ষনীয় আমাদের এটার দিকে খেয়াল রাখা উচিৎ, তবে যেহেতু ঘুম থেকে উঠার পর মাথা ব্যাথাটি খুব তীব্র নয় বা পুরোপুরি জেগে উঠলে তার মাথাব্যাথা চলে যায় তাই এই ব্যাপারটির উপর আমাদের খুব বেশী জোর না দিলেও চলবে।)

তীব্র উপসর্গঃ (Intense symptoms)

  • মাথায় আঘাত পাবার কারনে সমস্যাগুলির শুরু।

হ্রাস-বৃদ্ধি(modalities) গুলি খুব বেশী অদ্ভুদ নয়। অধিকাংশ মাথাব্যাথা শারিরীক পরিশ্রম করলে বা প্রবল মানসিক চাপে থাকলে বাড়ে। পানিতে সাতার কাটলে শারিরীক পরিশ্রম হয় এবং তখন মাথায় চাপ পড়ে ফলে তখন মাথাব্যাথা বাড়তেই পারে এখানে অদ্ভুদ কোন কিছুই নেই। যদি আমরা বড় কোন লক্ষনের ক্ষেত্রে কোন ঔষধ না পাই তখন আমরা এই সব লক্ষনের ক্ষেত্রে ঔষধ খুজবো বা এই সব লক্ষন তখন আমাদের কাজে লাগবে। আমাদের এখানে সর্ব সাধারন লক্ষন (general symptoms) একটিই আছে যা থেকে আমরা ঔষধের পার্থক্য করতে পারবো তা হলো শীত কাতরতা। (chilliness)

রেপাটরি ও ঔষধ নির্বাচনঃ (Repertorisation and remedy selection)

Head-pain-forehead-eyes-above-left এই রুব্রিক্সের মধ্যে আমরা সময় সংক্রান্ত কোন সাব রুব্রিক্স(subrubric) পাই নি। তাই আমরা Head-pain-forehead-eyes-above এই রুব্রিক্স খুজবো। যেহেতু এখানে ভোর ৪টা থেকে ৫টা টাইম ফ্রেমের কথা বলা হয়েছে এবং বাম পাশে চোখের উপর ব্যাথার ক্ষেত্রে আমরা কোন ঔষধ পাইনি তাই Head-pain-forehead এই রুব্রিক্স খুজতে হবে, যদি এখানেও আমরা টাইম সংক্রান্ত কিছু না পাই তাহলে আমাদের Head-pain এই রুব্রিক্স দেখতে হবে অর্থাৎ মাথার যেকোন স্থানে এই সময়ের মধ্যে ব্যাথা বেশী হয় কিনা দেখতে হবে। যদি এখানেও কিছু না পাই তাহলে আমাদের জেনারেল রুব্রিক্স এ যেতে হবে (সমগ্র শরীরে এই সময়ের মধ্যে কোন ব্যাথা বাড়ে কিনা) দেখতে হবে এই সময়ের মধ্যে (ভোর ৪টা থেকে ৫টা) কি কি বাড়ে… অর্থাৎ পিকিউলিয়ার থেকে জেনারেলে চলে যাওয়া।

ঔষধের পার্থক্যঃ (Differentaiopn of the remedies)

স্পাইজেলিয়া (Spigelia anthelmia) এর ক্ষেত্রে একটি কি-নোট হল (Keynote) বাম চোখের উপরে ব্যাথা। এটা Head-pain-forehead-eyes-above-night-midnight-after-4h এই রুব্রিক্সের একমাত্র ঔষধ এবং এর বৃদ্ধি (aggravation) হল হাটাহাটি করলে বাড়ে। আমাদের এই কেসের অদ্ভুদ লক্ষনের(peculiar sumptoms) সাথে এর কিনোটের মিল রয়েছে। এটা আঘাতের কারনে মাথাব্যাথা এই রুব্রিক্সের মধ্যে নেই। অর্থাৎ অন্য যে সচারচর রুব্রিক্স তার মধ্যে এটা নেই কিন্তু অদ্ভুদ লক্ষনের( peculiar sumptoms) মধ্যে আছে।

এক্ষেত্রে ফসফরাস (Phosphorus) এর কোন কিনোট নেই এসেন্সও (essence) নেই।

যদিও আঘাত থেকে সৃষ্ট রোগের ক্ষেত্রে আর্ণিকা (Arinica Montana) একটি বড়ো ঔষধ কিন্তু রোগী এক্ষেত্রে কোন ফল না পাওয়ায় আর্নিকা নিয়ে আর চিন্তা করা হয় নি।

ব্রাইওনিয়া (Bryonia Alba) এর ক্ষেত্রেও বাম চোখের উপরে ব্যাথা একটি কিনোট হিসাবে আছে। কিন্তু এখানে সময় সংক্রান্ত কোন বিষয়(time modalities) বলা নেই। ব্রাইওনিয়ার এসেন্স হল কষ্ট করলে বাড়ে বা motion aggravation.

ফসফরিক এ্যাসিড (Phosphoricum acidum) modalities এর সাথে মিলে না। মানসিক চাপে বাড়ে এটা ফসফরিক এ্যাসিডের একটা বড় সিমটম কিন্তু আমাদের এই কেসের সাথে এর চারিত্রিক গত দিক থেকে এই ঔষধের মিল নেই। তাই এই ঔষধ নিয়ে আর তেমন কোন চিন্তা করা হয় নি।

স্ট্রামোনিয়াম (Stramonium) এই ক্ষেত্রে সমস্যার কারন, অবস্থান ও সময় সংক্রান্ত ব্যাপার গুলি সাধারন রুব্রিক্সে কভার করে। যাই হোক এই লক্ষন গুলি (symptoms) মেটেরিয়া মেডিকাতে এই ঔষধটির কিনোট হিসাবে নেই। ঠিক যেমন বেলেডোনা (Belladonna), স্ট্রামোনিয়াম (Stramonium) এর ক্ষেত্রে সাধারনত রক্তাধিক্য জনিত ব্যাথা (congestive pain) আছে। কিন্তু আমরা এটা কিনোট বা এসেন্স (essence) হিসাবে নিতে পারি না।

বেলেডোনা (Belladonna) ঔষধটি মাথাব্যাথার ক্ষেত্রে খুব বেশী ব্যাবহৃত হয়। যদিও এর কিনোট হল ডানপাশের মাথাব্যাথা। তাই আমাদের এইখানে এই ঔষধটির কিনোট বা এসেন্স কাজে আসে না।

চেলিডেনিয়াম (Chelidonium majus) এর জেনারেল রুব্রিক্স এ সময় সংক্রান্ত ব্যাপার আছে কিন্তু এই স্থানে নয়(বাম চোখের উপর ব্যাথা)। Head-pain-forehead-eyes-above-left এই রুব্রিক্সে এটা ২য় ডিগ্রিতে আছে (2nd degree)। যদিও এটা প্রধানত ডান পাশের সমস্যা ও লিভারের সমস্যার ক্ষেত্রে বেশী ব্যাবহৃত হয়। এখানে চেলিডেনিয়ামের কোন কিনোট বা এসেন্স নেই।

কোকুলাস ইন্ডিকাস (Cocculus indicus) এই ঔষধটি আমরা প্রায়ই মাথা বা ঘাড়ের আঘাতে ব্যাবহার করি। এখানে এই ঔষধটির কোন কিনোট বা এসেন্স নেই confirmatory symptom হিসাবে।

গ্লোনোইনাম (Glonoinum) ঔষধটিও রক্ত জমাট বাধা ব্যাথাতে (congestive pain) কাজে লাগে। এখানে এর কোন কিনোট বা এসেন্স নেই।

আমাদের এই কেসে স্পাইজেলিয়া (Spigelia anthelmia) একটা মাত্র ঔষধ যা অদ্ভুত লক্ষণের (peculiar sumptoms) এর সাথে মিলে যায়। এটা তেমন কোন দরকারী নয় যে এটা causal রুব্রিক্সে নেই। আমি আরো কনফার্ম হবার জন্য বা ভালো বোঝার জন্য মেটেরিয়া মেডিকা খুজেছি এবং দেখলাম যে স্পাইজেলিয়া (Spigelia anthelmia) এই ধরনের কেসে ব্যাবহৃত হয়েছে। এমন একটি ঘটনা বা কেস এখানে উল্লেখ করলাম যা আমাকে এই কেসে স্পাইজেলিয়া (Spigelia anthelmia) ঔষধটি নির্বাচন করতে সহায়তা করেঃ

থমাস রুক্রেট (Th. Ruckert) একটি ক্রণিক মাথাব্যাথার কেস বর্ননা করেছিল যেখানে স্পাইজেলিয়া (Spigelia anthelmia) ঔষধটি কাজ করেছিল(R1)। রোগীর ব্যাথাটি ছিল মূলত কপালে যেখানে সে অনেক বছর আগে একটা আঘাত পেয়েছিল। তার অনুভুতি ছিল এমন যেন তার বাম চোখের ভ্রুর উপরে internal ulcer হয়েছে যা মাথার temples এ বর্ধিত হতো মাঝে মাঝে এটা মাথার পিছনে চলে যেত।

হেরিং (C. Hering) একটি কেস বর্ননা করেছিলেন যেটা স্পাইজেলিয়া(Spigelia anthelmia) দিয়ে ভালো করেছিলেন। একজন লোক ৩৮ বছর বয়স, জার্মান। প্রায় দশ বছর আগে তার বাম চোখের উপর ইটের আঘাত লেগেছিল, সেখানে একটা বড় ক্ষতের বা দাগের সৃষ্টি হয়েছিল এবং supraorbital nerve এ খুব চাপ পড়ছিল। মাঝে মাঝে irregular ভাবে তীব্র ব্যাথা হত ক্ষতের স্থানে, ব্যাথার তীব্রতা এতই বেশী ছিল যে সে মনেকরত সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে। ব্যাথা সাধারনত সকাল ১০টার দিকে শুরু হত এবং বিকাল ৩টার দিকে তা চরমে পৌছাতো। ধারালো তীক্ষ্ণ সুচের মত ব্যাথা করতো মাথার temple এ এবং কপালে (forehead) সেই সাথে চোখ থেকে তীব্র পানি বের হতে থাকে। অন্ধকার ঘরে থাকলে, চুপচাপ থাকলে ধীরে ধীরে ব্যাথাটি চলে যেত। আবার সাধারনত রাতে ব্যাথা চলে যেত(R2)।

এই দুটি কেস থেকে বোঝা যায় মাথায় আঘাত পাবার সাথে স্পাইজেলিয়া (Spigelia anthelmia) একটি সম্পর্ক আছে। এই ভাবে আমি স্পাইজেলিয়া (Spigelia anthelmia) ঔষধটি আমার রোগীর ক্ষেত্রে কনফার্ম করলাম। এই উপায়ে এই ঔষধটির এই কেসে কিনোট পাওয়া যায়, রেপাটরিতেও এর কিনোট আছেঃ Head-pain-forehead-eyes-above-night-midnight-after-4h, যদিও এটা ছোট রুব্রিক্স হিসাবে ছোট ডিগ্রিতে আছে তবুও একটা মাত্র রুব্রিক্স থাকার কারনে এর গুরুত্ব অনেক বেশী। মেটেরিয়া মেডিকাতে এর কিনোট হিসাবে বাম পাশে বলা হয়েছে। (left-sidedness)

ঔষধের মাত্রা নির্বাচনঃ (Choice of potency)

মাথাব্যাথার ক্ষেত্রে 30C এর উপরের মাত্রা দিলে সাধারনত খুব বেশী aggravation হয়ে থাকে। এই কারনে আমি কখনোই 200C(K) এর বেশী দিয়ে শুরু করি না।

চিকিৎসার কোর্সঃ (course of treatment)

রোগীকে প্রথমে স্পাইজেলিয়া(Spigelia anthelmia) 200C(K) দেয়া হয়েছিল। এটা দেবার পর কয়েক সপ্তাহ সে ভালো ছিল, তারপর তাকে 1M(K) দেয়া হয়েছিল। তারপর তার মাথাব্যাথা পুরোপুরি চলে গিয়েছিল এবং গত ১৮ বছরের মধ্যে তা আর ফিরে আসেনি।

কেস মূল্যায়নঃ (Evaluation of the case)

এই কেসটি আমাদের কাছে একটা বড় উদাহরণ লক্ষন বা Symptom সিলেকশানের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ক্রিটিক্যাল কেসে কিভাবে সিমটম সিলেকশান করতে হয়। আমরা যদি এখানে কম গুরুত্বপূর্ন অনেক ছোট ছোট সিমটম নিতাম তাহলে স্পাইজেলিয়া(Spigelia anthelmia) ঔষধটি হয়তো আমাদের অনেকের চিন্তাতেও আসতো না। এই কেসটি আমাদের আরো শিক্ষা দেয় যে সংস্কারমুক্ত(unprejudiced) মন নিয়েই আমাদের একটি কেস গ্রহন করা উচিৎ(R3)। ভাসাভাসা ভাবে বা হালকা ভাবে এই কেসটি দেখলে অনেক হোমিওপ্যাথ এক্ষেত্রে আঘাতের জন্য বেশী ব্যবহৃত ঔষধ যেমন আর্নিকা (Arnica Montana) বা ন্যাট্রম সালফ (Natrium sulphuricum) সহজের প্রেসক্রাইব করতেন। কিন্তু আমরা এখানে দেখতে পাই যে সমস্যার মূল কারনের জন্য বা মাথায় আঘাতের পর একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে(the organism gives clear symptom after a causal factor)। এই সুনির্দিষ্ট লক্ষণ গুলিই আমাদের ঔষধ নির্ধারন করতে সহায়তা করে যদিও আমরা রোগের কারণ গুলিকেও অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের অনুধাবন করা প্রয়োজন যে – শুধু কারণ লক্ষণের জন্য দায়ী না – জীবনীশক্তিই লক্ষণ সৃষ্টি করে । একইভাবে, চিররোগের ক্ষেত্রেও বংশগত রোগপ্রবণতা বা মায়াজম যেখানে রোগের কারণ, সেখানেও ওষুধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তীব্র চরিত্রগত, আদ্ভুদ, একক লক্ষণের উপর ভিত্তি করেই করা উচিৎ - যা হ্যানিম্যান অরগাননের ১৫৩ নম্বর সূত্রে নির্দেশ করেছেন।

-------------------------------------------------

R1. Peters J.C A Complete Treatise on Headaches and

Diseases of the Head, 1859, page 88.

R2. Hearing C, The Guiding Symptoms of our Materia Medica,

Jain Publishers, New Delhi, reprint 1988, page 442, 461

R3. Hanemann S, Organon of Medicine, sixth edition, Jain

Publishers, New Delhi, reprint 1982, paragraph 83.

Erik van Woensel, Classical Homeopathy Evidence Based Medicine (Volume 1), Case studies, Long term treatment Theory. Published by Educatief Centrum voor Homeopathie, 2011; page 155-160 থেকে অনূদিত.

Read 638 times Last modified on Tuesday, 17 October 2017 08:53
Login to post comments